রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। ছবি: আল-জাজিরা থেকে সংগৃহীত অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: যুদ্ধের প্রভাব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণের বোঝায় বিপর্যস্ত দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তা করার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। এসব দেশের ঋণ পুনর্গঠন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সভা শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জর্জিয়েভা।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাবনা এবং এশিয়ার গতিশীলতা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আশাবাদ রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি, উচ্চ ঋণ, যুদ্ধ ও জলবায়ু ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
জর্জিয়েভা বলেন, উন্নত দেশগুলো এআই খাতে বিনিয়োগের সুবাদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা পেলেও ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র দেশগুলো সেই সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে এসব দেশকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়া এবং বাড়তি ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হচ্ছে। বৈশ্বিক সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে এখন তাদের রাজস্বের ৮ থেকে ১৪ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি।
মূল্যস্ফীতির প্রভাব তুলে ধরে আইএমএফপ্রধান বলেন, সব জায়গার মানুষই মূল্যস্ফীতি পছন্দ করেন না, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ। মূল্যস্ফীতি দরিদ্রদের ওপর একধরনের করের মতো।
যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি
বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন আয়ের তেল আমদানিকারক দেশগুলো। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং তেল-গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা ও আর্থিক কমিটির (আইএমএফসি) চেয়ারম্যান এবং সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদআন এক বিবৃতিতে বলেন, সংঘাত ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। এতে পরিশোধিত জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দামের ওপর চাপ বাড়বে এবং জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়বে। ১৯১ সদস্যের আইএমএফের প্রধান নীতিনির্ধারণী কমিটি আইএমএফসি।
ঋণ পুনর্গঠন ও আর্থিক সহায়তায় জোর
জর্জিয়েভা বলেন, প্রয়োজন হলে দেশগুলোর ঋণ পুনর্গঠনে সহায়তা করা, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আইএমএফের ভূমিকা রয়েছে।
তার মতে, এসব দেশকে এমনভাবে সরকারি ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য আরও বেশি সম্পদ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে আইএমএফ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ইরাক ও লেবাননকে সহায়তার বিষয়েও কথা বলেন আইএমএফপ্রধান। তিনি জানান, ইরাকের অনুরোধ করা ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে সংস্থাটি জোরালোভাবে সহায়তা দেবে। অন্যদিকে, লেবাননের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে।
জর্জিয়েভা বলেন, ইরাককে অর্থায়নের পাশাপাশি নীতিগত সহায়তাও দেবে আইএমএফ। লেবাননের ক্ষেত্রেও আলোচনা সফলভাবে শেষ করার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
সূত্র: আল-জাজিরা